Beta version

আমাদের বাঁচাও, নেপাল কাঁদছে

নেপাল: ‘পুরো নেপাল কাঁদছে। প্লিজ আমাদের জন্য প্রার্থনা করো। আমাদের বাঁচাও! ’-ই-মেইল বার্তায় কথাগুলো বলছিলেন নেপালের ‘রিপাবলিকা’ পত্রিকার সাংবাদিক কৃতি ভুজু।

কৃতি বলছিলেন, ‘যত দূর খবর পাচ্ছি পুরোনো স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। পর্যটকেরা আসত এমন অনেক জায়গাই ধসে গেছে। আমরা দুপুর থেকে বাসার বাইরে। অনেকেরই খাওয়া দাওয়া হয়নি। জানি না কখন এই দুর্যোগ শেষ হবে। পুরো নেপাল কাঁদছে। প্লিজ আমাদের জন্য দোয়া করো।’

ইউনেসকো নেপালের সমন্বয়ক এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক লক্ষণ পান্থের সঙ্গে কথা হচ্ছিল ফেসবুকে। তিনি বললেন, ‘কাঠমান্ডুতেই আমার বাসা। হঠাৎ করেই ভয়াবহ কম্পন শুরু হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশে আহাজারি আর কান্নার শব্দ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যেন সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। ১৮ তলা একটি ভবন ধসে গেছে।’
Image: Powerful earthquake hits Nepal

এই মুহূর্তে নেপালের কী অবস্থা তা জানতে চাইলে লক্ষণ বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা বাসা থেকে বের হয়ে এসেছি। এখনো বাসার বাইরে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আমরা যেন এখনো বাসায় না ফিরি। আমাদের মতোই হাজার হাজার মানুষ এখন রাস্তায়, খোলা প্রান্তরে। নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারের গাড়িগুলোর সাইরেন বাজছে, উদ্ধার কাজ চলছে। এখানে সেখানে ধসে পড়া ভবন। প্রত্যেকেই নানাভাবে স্বজনদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু টেলিফোনগুলো কাজ করছে না। তবে সব জায়গা থেকেই খারাপ খবর আসছে।’

ঠিক কত মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে?-এমন প্রশ্নের জবাবে লক্ষণ বলেন, ‘শত শত মানুষ মারা গেছে বলে খবর পাচ্ছি। কিন্তু সঠিক সংখ্যা কত এখনো বলতে পারছি না। সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ সংখ্যাটা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে।’

নেপাল জুড়ে এখন চলছে কান্না, হাহাকার আর আহাজারি। নেপালিরা বলছেন, এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাঁরা কখনো দেখেননি।
নেপালের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য কর্মকর্তা ইন্দ্র ধেজ খেস্তি বলেন, ‘নেপালে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা কখনো দেখিনি। কাঠমাণ্ডুর অনেক জায়গাই এখন ধ্বংসস্তূপ। এই দৃশ্য সহ্য করার নয়। আমরা কেউ কাউকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। তবুও চেষ্টা করছি।’

image_pdfimage_print